শনিবার ১৯শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৫ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
ই-পেপার   শনিবার ১৯শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

আজ ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস
প্রকাশ: ৭ জুন, ২০২১, ১২:৩১ অপরাহ্ণ |
অনলাইন সংস্করণ

আজ ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস

নিউজ ডেস্কঃ ছয় দফা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘অনেকেই ছয় দফা দাবি নিয়ে অনেক কথা বলেন। কিন্তু, আমি ব্যক্তিগতভাবে জানি এটা (ছয় দফা দাবি) বঙ্গবন্ধুর একান্ত চিন্তার ফসল।’

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই একক চিন্তাই বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূলমন্ত্র। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের রোডম্যাপ মুলত রচিত হয়েছিলো বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা থেকেই। এটি ছিল রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত।

বাংলাদেশের ইতিহাসে ছয় দফা এতোটাই গুরুত্ব বহন করে যে, এই কর্মসূচিকে বলা হয় বাঙালির মুক্তির সনদ বা ম্যাগনাকার্টা। বাঙালি জাতীয়তাবাদের উত্থানের ইতিহাসে ছয় দফার ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনৈতিক ইতিহাসবিদ মহিউদ্দিন আহমদ তার ‘আওয়ামী লীগ : উত্থানপর্ব ১৯৪৮-১৯৭০’ গ্রন্থে লিখেছেন, ‘ছয় দফা হঠাৎ করে আসমান থেকে পড়েনি। দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি ও ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এর তাত্ত্বিক ভিত্তি তৈরি হচ্ছিল। একই সঙ্গে তৈরি হয়েছিল রাজনীতিবিদদের সঙ্গে অর্থনীতিবিদদের যুগলবন্দি, স্বাধিকারের দাবিতে যাঁরা এক মোহনায় মিলেছিলেন।’

ছয় দফার মূল বক্তব্য ছিল প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয় ছাড়া সব ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকবে। পূর্ব বাংলা ও পশ্চিম পাকিস্তানে দুটি পৃথক ও সহজ বিনিময়যোগ্য মুদ্রা থাকবে। সরকারের কর, শুল্ক ধার্য ও আদায় করার দায়িত্ব প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকাসহ দুই অঞ্চলের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার আলাদা হিসাব থাকবে। পূর্ব বাংলার প্রতিরক্ষা ঝুঁকি কমানোর জন্য এখানে আধা সামরিক বাহিনী গঠন ও নৌবাহিনীর সদর দপ্তর স্থাপন।

বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ছয় দফা দাবির মুখে পাকিস্তানের তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খান বিচলিত হয়ে পড়েন। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ছয় দফা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে অস্ত্রের ভাষায় জবাব দেওয়া হবে। ছয় দফা কর্মসূচি জনগণের মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা সমগ্র পূর্ব বাংলা সফর করেন। ছয় দফাকে বাঙালির বাঁচার দাবি হিসেবে অভিহিত করেন।

ছয় দফা আন্দোলন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে অনন্য এক স্থান দখল করে আছে। যিনি এই ইতিহাস রচয়িতা তার মুখ থেকে এই ইতিহাসের গল্প শোনা বা পড়া এক অন্যরকম অনুভূতি জাগায়।আমি এখানে কারাগারের রোজনামচা থেকে কিছু ইতিহাস তুলে ধরছি মাত্র।

বঙ্গবন্ধু বলছেন, ‘সকালে ঘুম থেকে উঠেই শুনলাম রাতে কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়ে এসেছে। বন্দি, সিপাহীরা আলোচনা করছে। ব্যস্ত হয়ে গেলাম; বুঝতে বাকি রইলো না আওয়ামী লীগের নেতা এবং কর্মীদের নিয়ে আসা হয়েছে, ৭ জুনের হরতালকে বানচাল করার জন্য’।

বঙ্গবন্ধু এ সময় কিছু রাজনীতিবিদের মুখোশও খুলে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, ‘এক অভিনব খবর কাগজে দেখলাম, মর্নিং নিউজ কাগজ ন্যাপ নেতা মি. মশিয়ুর রহমানের ফটো দিয়ে একটা সংবাদ পরিবেশন করেছে। সেসময় কাগজেও খবরটি উঠেছে। তিনি ছয় দফার দাবি নিয়ে তার মতামত দিয়েছেন। তার মত- ছয় দফা কর্মসূচি কার্যকর হলে পরিশেষে এটি সমস্ত দেশে এক বিচ্ছিন্নতাবাদ জাগিয়ে তুলবে। এমনকি তিনি যদি প্রেসিডেন্ট হতেন, তাহলে ছয় দফা বাস্তবায়িত হতে দিতেন না’।

ছয় দফা নিয়ে এক প্রবন্ধে তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরই বঙ্গবন্ধু উপলব্ধি করেছিলেন, এই রাষ্ট্র বাঙালির জন্য তৈরি হয়নি। একদিন বাঙালিকেই বাঙালির ভাগ্যনিয়ন্তা হতে হবে। পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরই তাই এই একজন মানুষ (বঙ্গবন্ধু) তার লক্ষ্যও নির্ধারণ করে ফেলেছিলেন। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর তার সে লক্ষ্য পূরণও হয়। ১৯৬৬ সালে এ ছয় দফা প্রণয়নের পর বঙ্গবন্ধু এটি গ্রহণ করার জন্য আতাউর রহমান খানসহ তৎকালীন পূর্ব ও পাকিস্তানের বিরোধী দলের সব নেতার কাছেই গিয়েছিলেন। কিন্তু ছয় দফা নিয়ে অগ্রসর হলে ‘ফাঁসিতে ঝুলানো হবে’ এমন ভয় থেকে কোনো নেতাই এগিয়ে আসেননি। তখন বঙ্গবন্ধু নিজেই সিদ্ধান্ত নেন ছয় দফা নিয়ে তিনি জনগণের কাছে যাবেন। এর পরই এ নিয়ে জনজাগরণ সৃষ্টি হয়।’

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ৭ই জুন এক অবিস্মরণীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৬৬ সালের এই দিন বাঙালির মুক্তির সনদ ৬ দফা আদায়ের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের ডাকে হরতাল চলাকালে নিরস্ত্র জনতার ওপর পুলিশ ও তৎকালীন ইপিআর গুলিবর্ষণ করে।

এতে ঢাকা এবং নারায়ণগঞ্জে মনু মিয়া, সফিক ও শামসুল হকসহ ১১ জন শহীদ হন। শহীদের রক্তে ৬ দফা আন্দোলন স্ফুলিঙ্গের মতো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র; রাজপথে নেমে আসে বাংলার মুক্তিকামী জনগণ।

পাকিস্তানি শাসন-শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির লক্ষ্যে স্বৈরাচার আইয়ুব সরকারের বিরুদ্ধে ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে তৎকালীন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের সব বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে ডাকা এক জাতীয় সম্মেলনে পূর্ব বাংলার জনগণের পক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেন।

পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ফিরে ৬ দফার পক্ষে দেশব্যাপী প্রচারাভিযান শুরু করেন এবং বাংলার আনাচে-কানাচে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে জনগণের সামনে ৬ দফার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

৬ দফা হয়ে ওঠে পূর্ব বাংলার শোষিত-বঞ্চিত মানুষের মুক্তির সনদ। ৬ দফার প্রতি ব্যাপক জনসমর্থন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে সামরিক জান্তা আইয়ুব খানের নেতৃত্বে স্বৈরাচারী সরকার ১৯৬৬ সালের ৮ মে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ৬ দফা আন্দোলন ১৯৬৬ সালের ৭ই জুন নতুন মাত্রা পায়। শেখ মুজিবসহ সব রাজবন্দির মুক্তির দাবিতে ৭ই জুন সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল ডাকা হয়। এদিন পুলিশের গুলিতে ১১ জন শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ নিহত হয়।




সর্বশেষ সংবাদ

পুরোন সংবাদ খুজুন
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  

সর্বাধিক পঠিত

প্রকাশক: সৈয়দ এমরান আলী রিপন

সম্পাদক: রোমান চৌধুরী

মোবাইলঃ ০১৭১১৯৫৭২৬৩ / 09639298200

অফিস : সৈয়দ মহল, জানুকি সিং রোড,কাউনিয়া,বরিশাল

ই-মেইলঃ barisalpress247@gmail.com

Design & Developed by
  বরিশালের জাগুয়ায় ৩ নং ওয়ার্ডে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ   প্রবাসী কর্মীদের ৪ দফা দাবি   টিকটক-পাবজিসহ অনলাইন খেলা ও অ্যাপস বন্ধে আইনি নোটিশ   চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে:শিক্ষামন্ত্রী   গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে আল্লাহর জিকির!   শিক্ষার্থীদেরকে টিকা প্রদান শুরু করেছে রাজশাহীর মেডিকেল কলেজগুলো   ভারতের চেন্নাইয়ে চার সিংহের শরীরে করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত   রাজশাহী বিভাগে করোনায় ৮ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৩৪৭   জাতীয় যুব সংসদ বাজেট অধিবেশন ২০২১ অনুষ্ঠিত   দেশ এগিয়ে যাচ্ছে অপ্রতিরোধ্য গতিতে : ওবায়দুল কাদের   দাম বাড়িয়ে বোতলের লেবেল পাল্টে বিক্রি হচ্ছে সয়াবিন   ‘শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের আগেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে হবে’:ন্যাপ   বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম হীরার সন্ধান মিললো আফ্রিকায়   ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এগিয়ে আছেন বিচারক রাইসি   মিয়ানমারের কাছে অস্ত্র বিক্রি স্থগিত করতে আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ   বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া সোহেল, আম চাষ করে বছরে আয় কোটি টাকা   হাইকোর্টের সিদ্ধান্তে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসীরা   মুক্তি পেলেন বিএনপি নেত্রী নিপুণ রায়   ফাইজারের মধ্যস্থতায় ফিলিস্তিনকে মেয়াদোত্তীর্ণ টিকা গছিয়ে দিচ্ছে বর্বর ইসরায়েল   স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনানসহ তার ৩ সঙ্গী: ডিবি
error: কপি করা থেকে বিরত থাকুন !!