মঙ্গলবার ২০শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৭ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
ই-পেপার   মঙ্গলবার ২০শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শেখ মুজিব আমার পিতা | শেখ হাসিনা
প্রকাশ: ২ জুলাই, ২০২০, ৮:২২ পূর্বাহ্ণ |
অনলাইন সংস্করণ

শেখ মুজিব আমার পিতা | শেখ হাসিনা
মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান 
চীফ রিপোর্টার |
বাইগার নদীর তীর ঘেঁষে ছবির মতো সাজানো সুন্দর একটা গ্রাম। সে গ্রামটির নাম টুঙ্গিপাড়া। বাইগার নদী এঁকে-বেঁকে গিয়ে মিশেছে মধুমতী নদীতে। এই মধুমতী নদীর অসংখ্য শাখা নদীর একটা হলো বাইগার নদী। নদীর দু’পাশে তাল, তমাল ও হিজল গাছের সবুজ সমারোহ। ভাটিয়ালী গানের সুর ভেসে আসে হালধরা মাঝির কণ্ঠ থেকে, পাখির গান আর নদীর কলকল ধ্বনি এক অপূর্ব মনোরম পরিবেশ গড়ে তোলে। প্রায় ২০০ বছর পূর্বে মধুমতী নদী এ গ্রাম ঘেঁষে বয়ে যেত। এই নদীর তীর ঘেঁষেই গড়ে উঠেছিল জনবসতি। প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে ধীরে ধীরে নদীটি দূরে সরে যায়। চর জেগে ওঠে আরও অনেক গ্রাম। সেই ২০০ বছর আগে ইসলাম ধর্ম প্রচারের দায়িত্ব নিয়েই আমাদের পূর্ব-পুরুষরা এসে এই নদীবিধৌত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সুষমামণ্ডিত ছোট্ট গ্রামটিতে তাদের বসতি গড়ে তোলে এবং তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল কলকাতা বন্দরকে কেন্দ্র করে। অনাবাদী জমিজমা চাষবাস শুরু করেন এবং গ্রামে বসবাসকারী কৃষকদের নিয়ে একটা আত্মনির্ভরশীল গ্রাম হিসেবেই এ গ্রামটিকে বেশ বর্ধিষ্ণু গ্রামরূপে গড়ে তোলেন। যাতায়াত ব্যবস্থায় প্রথমে শুধু নৌকাই ছিল একমাত্র ভরসা। পরে গোপালগঞ্জ থানা স্টিমার ঘাট হিসেবে গড়ে ওঠে। আমাদের পূর্ব-পুরুষরা টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জমিজমা ক্রয় করে বসতির জন্য কলকাতা থেকে কারিগর ও মিস্ত্রি এনে দালান বাড়ি তৈরি করেন, যা সমাপ্ত হয় ১৮৫৪ সালে। এখনও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সেই দালানের ধ্বংসাবশেষ। ১৯৭১ সালে যে দুটো দালানে বসতি ছিল, পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী আগুন দিয়ে সে দুটোও জ্বালিয়ে দেয়। এই দালান-কোঠায় বসবাস শুরু হওয়ার পর ধীরে ধীরে বংশবৃদ্ধি হতে থাকে আর আশপাশে বসতির সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এই দালানেরই উত্তর-পূর্ব কোণে টিনের চৌচালা ঘর তোলেন আমার দাদার বাবা শেখ আবদুল হামিদ। আমার দাদা শেখ লুৎফর রহমানও এ বাড়িতেই সংসার গড়ে তোলেন। আর এখানেই জন্ম নেন আমার আব্বা, ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ। আমার আব্বার নানা শেখ আবদুল মজিদ আব্বার আকিকার সময় নাম রাখেন শেখ মুজিবুর রহমান। আমার দাদির দুই কন্যাসন্তানের পর প্রথম পুত্রসন্তান আমার আব্বা, তাই আমার দাদির বাবা তাঁর সমস্ত সম্পত্তি দাদিকে দান করেন এবং নাম রাখার সময় বলে যান, মা সায়রা- তোর ছেলের নাম এমন রাখলাম, যে নাম জগৎ জোড়াখ্যাত হবে। আমার আব্বার শৈশব কেটেছিল টুঙ্গিপাড়ার নদীর পানিতে ঝাঁপ দিয়ে, মেঠোপথের ধুলোবালি মেখে। বর্ষার কাদাপানিতে ভিজে। বাবুই পাখি কেমন করে বাসা গড়ে তোলে, মাছরাঙা কিভাবে ডুব দিয়ে মাছ ধরে, কোথায় দোয়েল পাখির বাসা। দোয়েল পাখির সুমধুর সুর আমার আব্বাকে দারুণভাবে আকৃষ্ট করত। আর তাই গ্রামের ছোট ছোট ছেলেদের সঙ্গে করে মাঠে-ঘাটে ঘুরে প্রকৃতির সাথে মিশে বেড়াতে তার ভালো লাগত। ছোট্ট শালিক পাখির ছানা, ময়না পাখির ছানা ধরে তাদের কথা বলা ও শিষ দেয়া শেখাতেন। বানর ও কুকুর পুষতেন, তিনি যা বলতেন তারা তাই করত। আবার এগুলো দেখাশোনার ভার দিতেন ছোট বোন হেলেনের ওপর। এই পোষা পাখি, জীবজন্তুর প্রতি এতটুকু অবহেলা তিনি সইতে পারতেন না। মাঝে মাঝে এ জন্য ছোট বোনকে বকাও খেতে হতো। আমাদের বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম দিক ঘেঁষে একটা সরু খাল চলে গেছে মধুমতী ও বাইগার নদীর সংযোগ লক্ষ্য করে। এই খালের পাড়েই ছিল কাচারিঘর। আর এই কাচারিঘরের পাশে মাস্টার, পণ্ডিত ও মৌলভী সাহেবদের থাকার ঘর ছিল। এরা গৃহশিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন এবং তাদের কাছে আমার আব্বা আরবি, বাংলা, ইংরেজি ও অংক শিখতেন। আমাদের পূর্ব-পুরুষদেরই গড়ে তোলা গিমাডাঙ্গা -টুঙ্গিপাড়া স্কুল। তখন ছিল প্রাথমিক বিদ্যালয়। বাড়ি থেকে প্রায় সোয়া কিলোমিটার দূরে। আমার আব্বা এই স্কুলেই প্রথম পড়াশোনা করেন। একবার বর্ষাকালে নৌকা করে স্কুল থেকে ফেরার সময় নৌকাডুবি হয়ে যায়। আমার আব্বা খালের পানিতে পড়ে যান। এরপর আমার দাদি তাকে আর ওই স্কুলে যেতে দেননি। তার একরত্তি ছেলে, চোখের মণি, গোটা বংশের আদরের দুলাল, তার এতটুকু কষ্ট যেন সকলেরই কষ্ট। সেই স্কুল থেকে নিয়ে গিয়ে গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুলে ভর্তি করে দেন। গোপালগঞ্জ আমার দাদার কর্মস্থল ছিল। সেই থেকে গোপালগঞ্জেই তিনি পড়াশোনা করতে শুরু করেন। মাঝখানে একবার দাদা মাদারীপুর বদলি হন। তখন কিছুদিনের জন্য মাদারীপুরেও আব্বা পড়াশোনা করেন। পরে গোপালগঞ্জেই তার কৈশোরবেলা কাটে। আমার আব্বার শরীর ছিল বেশ রোগা। তাই আমার দাদি সবসময়ই ব্যস্ত থাকতেন কিভাবে তার খোকার শরীর ভালো করা যায়। আদর করে দাদা-দাদিও খোকা বলেই ডাকতেন। আর ভাইবোন, গ্রামবাসীর কাছে ছিলেন মিয়াভাই বলে পরিচিত। গ্রামের সহজ-সরল মানুষের সঙ্গে অত্যন্ত সহজভাবে তিনি মিশতেন। আমার দাদি সবসময় ব্যস্ত থাকতেন খোকার শরীর সুস্থ করে তুলতে। তাই দুধ, ছানা আর মাখন ঘরেই তৈরি হতো। বাগানের ফল, নদীর তাজা মাছ সবসময় খোকার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত থাকত। কিন্তু আমার আব্বা ছোট্টবেলা থেকেই ছিপছিপে পাতলা ছিলেন, তাই দাদির আপসোসেরও সীমা ছিল না যে, কেন তার খোকা একটু হৃষ্টপুষ্ট নাদুসনুদুস হয় না। খাবার বেলায় খুব সাধারণ ভাত, মাছের ঝোল, সবজিই তিনি পছন্দ করতেন। খাবার শেষে দুধ-ভাত কলা ও গুড় খুব পছন্দ করতেন। আমার চার ফুফু ও এক চাচা ছিলেন। এই চার বোনের মধ্যেই দুই বোন বড় ছিলেন। ছোট ভাইটির যাতে কোনো কষ্ট না হয় এ জন্য সদাসর্বদা ব্যস্ত থাকতেন বড় দুই বোন। বাকিরা ছোট্ট কিন্তু দাদা-দাদির কাছে খোকার আদর ছিল সীমাহীন। আমাদের বাড়িতে আশ্রিতের সংখ্যাও ছিল প্রচুর। আমার দাদার বা দাদির বোনদের ছেলেমেয়ে বিশেষ করে যারা পিতৃহারা-মাতৃহারা তাদের দাদা-দাদি নিজেদের কাছে এনেই মানুষ করতেন। আর তাই প্রায় ১৭-১৮ জন ছেলেমেয়ে একই সঙ্গে বড় হয়ে ওঠে। আব্বার যখন ১০ বছর বয়স তখন তার বিয়ে হয়। আমার মায়ের বয়স ছিল মাত্র ৩ বছর। আমার মা পিতৃহারা হওয়ার পর তার দাদা এই বিয়ে দিয়ে সমস্ত সম্পত্তি মা ও খালার নামে লিখে দেন। আমার খালা মায়ের থেকে ৩-৪ বছরের বড়। আত্মীয়ের মধ্যেই দুই বোনকে বিয়ে দেন এবং আমার দাদাকে (গার্ডিয়ান) মুরব্বি করে দেন। আমার মার যখন ৬-৭ বছর বয়স তখন তার মা মারা যান এবং তখন আমার দাদি কোলে তুলে নেন আমার মাকে। আর সেই থেকে একই সঙ্গে সব ছেলেমেয়েদের সঙ্গে মানুষ হন।




সর্বশেষ সংবাদ

পুরোন সংবাদ খুজুন
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  

সর্বাধিক পঠিত

প্রকাশক: সৈয়দ এমরান আলী রিপন

সম্পাদক: রোমান চৌধুরী

মোবাইলঃ ০১৭১১৯৫৭২৬৩ / 09639298200

অফিস : সৈয়দ মহল, জানুকি সিং রোড,কাউনিয়া,বরিশাল

ই-মেইলঃ barisalpress247@gmail.com

Design & Developed by
  রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে আটক ২২   করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে ব্যাংক কর্মকর্তার পরিবার পাবে ৫০ লাখ টাকা   গ্রাহকদের নতুন সুবিধা দিচ্ছে ফেসবুক   বাড়িতে তৈরি করুন মিষ্টি আলুর পান্তুয়া   বরিশাল বিভাগীয় অনলাইন প্রকাশক ও সম্পাদক পরিষদ কমিটি গঠন।   ফ্লাইট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত   বরিশাল অনলাইন প্রেসক্লাবের অনুমোদন দিলো বাংলাদেশ অনলাইন প্রেসক্লাব   কারাবন্দি জি কে শামীম করোনায় আক্রান্ত   আত্রাইয়ে লকডাউন বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে পুলিশ   ডায়রিয়ায় নাজেহাল রাঙ্গাবালী উপজেলা।নেই কোন হাসপতাল ও ডায়রিয়ার স্যালাইন।   নওগাঁর রাণীনগরে পুকুরে ড্রামের ভিতর থেকে এক যুবকের লাশ উদ্ধার   মির্জাগঞ্জে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ ১১জনের মৃত্যু   করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ১১২, নতুন আক্রান্ত ৪,২৭১   রাজশাহী বিভাগে ৩০ হাজার ছাড়াল করোনা শনাক্তের সংখ্যা, মৃত্যু আরো ৪   কাছিপাড়তে ল্যাব এশিয়া ডায়াগনস্টিক এন্ড মেডিকেল সার্ভিসের উদ্যাগে মাস্ক বিতরণ   আরও এক সপ্তাহ বাড়ছে লকডাউন   রাজশাহীতে ৫৫ লাখ টাকা মূল্যের হেরোইনসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক   বাগেরহাটে হেফাজত কর্মীদের হামলায় ওসিসহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত   স্বাস্থ্যবিধি মেনেই হিলিতে কৃষকলীগের ৪৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত   টিকা গ্রহনের পর আক্রান্ত হলেও স্বাস্থ্যঝুঁকি কম
error: কপি করা থেকে বিরত থাকুন !!