মঙ্গলবার ২৭শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
ই-পেপার   মঙ্গলবার ২৭শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

কলাপাড়া হাসপাতালে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে চিকিৎসক ও ষ্টাফ।।
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর, ২০২০, ১২:২১ অপরাহ্ণ |
অনলাইন সংস্করণ

কলাপাড়া হাসপাতালে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে চিকিৎসক ও ষ্টাফ।।

 

পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকগন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, অনাকাঙ্ক্ষিত যে কোন ঘটনায় তারা স্থানীয় প্রভাবশালীদের হুমকীর মুখে পরছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোগীর সেবা দিতে গিয়ে কোন দুর্ঘটনা হলেই স্বজনদের তোপের মুখে পরতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। সাম্প্রতিক কলাপাড়া হাসপাতালে রোগী দেখায় অবহেলার দায় চাপিয়ে কর্তব্যরত ডাক্তারকে হুমকী ও ভয়ভীতির ঘটনা ঘটেছে। যা নিয়ে উভয় পক্ষ হতে মামলা ও পাল্টা মামলা হয়েছে। বিষয়টি এখন কলাপাড়া উপজেলায় সবার মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি করছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার ও নার্সসহ সকল ষ্টাফদের সবসময় একধরনের আতংকের মধ্যে কাজ করতে হয়। কোন রোগীর খারাপ অবস্থা হলে বা মারা গেলে তার জন্য হাসপাতালের ডাক্তার ও ষ্টাফদের ভয়ভীতিসহ মারধরের ঘটনা করে থাকে রোগীর স্বজনরা। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যাক্তি বা তার স্বজনরাই এধরনের ক্ষমতা দেখিয়ে থাকে। হাসপাতালে কোন রোগী মারা গেলেই দায়িত্বে অবহেলার কালিমা দেয়া হয় হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তার, নার্স ও ষ্টাফদের উপর। কলাপাড়া হাসপাতালে অনাকাঙ্খিত এরকম অনেক ঘটনা হয়েছে যার জন্য ডাক্তার কিংবা নার্স নয়তো হাসপাতাল ষ্টাফদের গাল-মন্দ, ভয়ভীতি এমনকি মারধর করার ঘটনা ঘটেছে। যার প্রত্যেকটি ঘটনা ছিল অনাকাঙ্খিত ও অপ্রত্যাশিত। গত কয়েক মাস আগে কলাপাড়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: জে. এইচ খান লেলীনের উপর এরকম একটি ঘটনা ঘটেছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক রোগী মারা গেলে মৃত্যের স্বজনরা দায়িত্বে অবহেলার কথা বলে তার উপর চড়াও হয়ে ভয়ভীতি ও হুমকী দেয়। এমনকি তাকে মারধর করার চেষ্টাও করা হয়। সর্বশেষ গত ৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় কলাপাড়া উপজেলার প্রায়ত সাবেক সংসদ সদস্যের এক আত্মীয়ের মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বজনদের রোষানলে পরে কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা: তনিমা পারভীন রুনা। মৃত্যের স্বজনরা দাবী তোলেন ডাক্তারের অবহেলার কারনে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে তাদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরলে ডাক্তার ও হাসপাতাল ষ্টাফদের সাথে বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে মৃত্যের স্বজনরা কর্তব্যরত ডাক্তারকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকী দেয়। এতে উক্ত ডাক্তার বাদী হয়ে কলাপাড়া থানায় ১০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ইতোমধ্যে একজন আসামী গ্রেফতার হয়ে জামিনে বেড়িয়ে আসছে। মৃত্যের স্বজনরা রোগী দেখায় অবহেলার দায় চাপিয়ে ডাক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে পাল্টা একটি মামলা দায়ের করেছে।
ঘটনার তদন্তে হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে জানা যায়, ৭ টা ৩২ মিনিটের সময় অত্যান্ত মূমূর্ষ অবস্থায় ঐ রোগী নিয়ে তার স্বজনরা হাসপাতালের ইমারজেন্সী রুমে প্রবেশ করে। তখন হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার তনিমা পারভীন রুনা ও হাসপাতালের অন্য এক ষ্টাফ পলাশ হালদারকে ইমারজেন্সী রুমে বসে থাকতে দেখা যায়। রোগী ইমারজেন্সী রুমে ঢুকার সাথে সাথে পলাশ হালদার তার ব্লাড প্রেসার পরীক্ষা করেন। কিন্তু রোগীর প্রেসার পাওয়া না গেলে পরক্ষণে ডাক্তার তনিমা পারভীন রোগীর ব্লাড প্রেসার পরীক্ষা করেন। কিন্তু তিনিও রোগীর প্রেসার না পেলে ৭ টা ৩৮ মিনিটের সময় তাকে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ৭ টা ৫৯ মিনিটের সময় রোগীকে ইমারজেন্সী হতে হাসপাতালের বারান্দায় বের করতে দেখা যায়। পরবর্তীতে হাসপাতালের সামনে রোগীকে এ্যম্বোলেন্সে উঠানো হলে রোগীর অবস্থার আরো অবনতি হয়। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ডাক্তার তনিমা পারভীন রুনাকে দুইবার এ্যাম্বোলেন্সের সামনে গিয়ে রোগীকে সেবা দিতে দেখা যায়। পরে রোগী নিয়ে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে কিছুদুর যাওয়ার পর পথিমধ্যে রোগীর মৃত্যু হয়। এতে মৃত্যের স্বজনরা রোগী দেখার অবহেলার দায় চাপিয়ে ডাক্তারের উপর চড়াও হলে ডাক্তার তনিমা পারভীন রুনা আত্মরক্ষায় হাসপাতাল কোয়াটারে গিয়ে আশ্রয় নেন। মৃত্যের স্বজনদের মতে, ডাক্তার রোগী দেখায় অবহেলা করেছে। তিনি ইমারজেন্সীতে বসে মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। আরোও যত্নসহকারে দেখলে হয়তো রোগীকে বাচাঁনো যেতো বলে দাবী করেন তারা।
এবিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা: জে. এইচ খান লেলীন বলেন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতির মধ্যে আমরা সবসময় ঝুঁকি নিয়ে রোগীর সেবা দিয়ে যাচ্ছি। রোগীর সর্বোচ্চ সেবা প্রদানে আমরা কাজ করে থাকি। চিকিৎসার অবহেলায় কোন রোগী মারা যাক এটা আমাদের কারোরই কাম্য নয়। অত্যান্ত খারাপ অবস্থায় কোন রোগী নিয়ে আসলে আমরা সাধ্যমত চিকিৎসা দিয়ে রেফার করে থাকি। কিন্তু তারপরেও অনাকাঙ্খিত কোন কারনে রোগী মারা গেলে সেজন্য আমাদের দোষারুপ করা হয় সেই সাথে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকী দেয়া হয়। যা অত্যান্ত দু:খজনক ও ন্যাক্কারজনক ঘটনা। আগেও আমার সাথে এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল কিন্তু উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে আমাদের নিরব ভূমিকায় থাকতে হয়েছিল। এবারও ঠিক সেইরকম একটি ঘটনার পুর্নাবিত্তি হয়েছে কিন্তু এবার আমাদের কাছে যথার্থ প্রমানিদি রয়েছে। যেখানে এটা ষ্পষ্ট বোঝা যায় যে, রোগীর মৃত্যের ঘটনায় ডাক্তারের কোন গাফলতি বা অবহেলা ছিল না। তিনি আরোও বলেন, যারা ডাক্তারদের মাথায় অবহেলার দায় তুলে কলাপাড়া হাসপাতালের ডাক্তারসহ সমস্ত ডাক্তার জাতির সম্মানের উপর আঘাত করেছে তাদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি দেয়া হবে এটাই আশা করছি।




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

প্রকাশক: সৈয়দ এমরান আলী রিপন

সম্পাদক: রোমান চৌধুরী

মোবাইলঃ ০১৭১১৯৫৭২৬৩ / 09639298200

অফিস : সৈয়দ মহল, জানুকি সিং রোড,কাউনিয়া,বরিশাল

ই-মেইলঃ barisalpress247@gmail.com

Design & Developed by
  একেবারে আলু শূন্য হয়ে পড়েছে গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ার হাট-বাজারগুলো   চরমোনাইতে প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক, অবৈধ গর্ভপাত, অতঃপর!!   গৌরনদী থেকে শ্বশুর বাড়ি বেড়াতে গিয়ে লাশ হলো যুবক।   দিনাজপুর-বোচাগঞ্জ সড়কে জালানী ভর্তি লরি উল্টে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন   রাজশাহীতে ২ ও বিভাগে ২৬ জনের করোনা শনাক্ত   রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে আটক ৪৬   রাজশাহীতে অজ্ঞাত রিক্সা চালকের মৃত্যু   তাহেরপুরে মন্দির পরিদর্শনে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি   দেহরক্ষীসহ র‌্যাব হেফাজতে হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান |   দিনাজপুর-বোচাগঞ্জ সড়কে জালানী ভর্তি লরি উল্টে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন   পাবনা ভাংগুড়ায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো দুর্গোৎসব   নাটোরের বড়াইগ্রামে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে খামারীর মৃত্যু   নাটোরের বড়াইগ্রামে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে খামারীর মৃত্যু   নওগাঁর আত্রাইয়ে প্রতিহিংসার বিষে মরলো ১৫ লক্ষ টাকার মাছ   তালতলীতে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু   নওগাঁর রাণীনগরে একটি তালগাছে গাছের তিনটি মাথা   মির্জাগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্কুল ছাত্রের মৃত্যু   বলেশ্বর নদী থেকে ৩১ হাজার মিটার জাল আটকের পর পুড়িয়ে দিয়েছে নৌবাহিনী   অযন্তে ও অবহলোয় ঐতিহ্যের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বাগেরহাটের সদর উপজেলায় অবস্থিত কোদলা মঠ বা অযোদ্ধা মঠ   নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিমকে জনগণই রক্ষা করে |