মঙ্গলবার ২৭শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
ই-পেপার   মঙ্গলবার ২৭শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

২০৪১ সাল নাগাদ কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ হবে ৫০-৫০ | প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ: ৩ অক্টোবর, ২০২০, ১১:২৯ অপরাহ্ণ |
অনলাইন সংস্করণ

২০৪১ সাল নাগাদ কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ হবে ৫০-৫০ | প্রধানমন্ত্রী
নূরী নাজনীন | ঢাকা |
২০৪১ সাল নাগাদ কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ পুরুষের সমান করার অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি কোভিড-১৯ মহামারীর প্রেক্ষাপটে অভিবাসী নারীসহ সব খাতে তাদের চাকুরি রক্ষার আহ্বান রেখেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে উচ্চ পর্যায়ের এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এই আহ্বান জানান তিনি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৫তম বার্ষিক অধিবেশনের ফাঁকে ফোর্থ ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স অন উইমেনের ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে এই বৈঠক হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী একইসঙ্গে নারীর ক্ষমতায়ন, অগ্রগতি ও সমতা নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অঙ্গীকার নবায়ন ও প্রচেষ্টা জোরদারেরও আহ্বান জানান। নারীর অবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনটি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাদের চাকুরি রক্ষার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে অভিবাসী শ্রমিকসহ বিশ্ব সরবরাহ চেইনসহ অন্যান্য বৃহৎ কর্মক্ষেত্রে নারী কর্মীদের অবশ্যই রক্ষা করতে হবে যেন তারা আবারও প্রান্তিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।” অপর দুটি বিষয় তুলে ধরতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রথমেই বলেন, প্রতিটি মেয়ের কাছ থেকে বিশ্ব উপকৃত হতে পারে যার সম্ভাবনা ইতোমধ্যে উপলব্ধি করা গেছে, প্রতিটি নারী যাদের মেধা অবিকশিত এবং কেবল শিক্ষার মাধ্যমেই এর বিকাশ ঘটানো সম্ভব। দ্বিতীয়ত তিনি বলেন, আয় এবং কর্মসংস্থানের মাধ্যমেই ক্ষমতায়ন সৃষ্টি হয়। তাই আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে নারীদের সম্পৃক্ত করার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। ফোর্থ ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স অন উইমেনের ২৫তম বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “২৫তম এই বার্ষিকীতে আমি ২০৪১ সাল নাগাদ কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ ৫০-৫০ এ উন্নীত করার অঙ্গীকার করছি।” কোভিড-১৯ মহামারী নারীদের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মহামারীর এই সময়ে নারীরা বৈষম্য এবং বেশি পারিবারিক সহিংতার শিকার হচ্ছে। “যার ফলে নারীর ক্ষমতায়নে আমাদের কষ্টার্জিত অর্জন হুমকির মুখে।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নে ১৯৯৫ সালের বেইজিং ডিক্লারেশন অ্যান্ড প্ল্যাটফর্ম ফর অ্যাকশন একটি বড় ধরনের রোডম্যাপ তৈরি করেছে। এটি নারীর প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাপকভাবে বদলে দিয়েছে এবং ইতিবাচক উন্নয়নের অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। “তখন থেকে প্রায় সব দেশ নারী ও মেয়েদের সুরক্ষায় আইনি কাঠামো তৈরি করে। ২০৩০ এজেন্ডাও নিশ্চিতভাবে সকল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে নারীকে স্বীকৃতি দিয়েছে।” তিনি বলেন, “আমরা যেহেতু ‘পদক্ষেপের দশকে’ প্রবেশ করেছি তাই আমাদেরকে অবশ্যই প্রতিশ্রুতি নবায়ন করতে হবে এবং নারী-পুরুষের সমতা, নারীর ক্ষমতায়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে প্রচেষ্টা বাড়াতে হবে।” জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ে নারী প্রতিনিধিদের অগ্রাধিকার দেওয়ায় জাতিসংঘ মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা সকল পর্যায়েই এমনটা দেখতে চাই।” নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার পরপরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের উন্নয়ন এজেন্ডার কেন্দ্রবিন্দুতে নারীদের বসিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন। দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নারীর প্রয়োজন পূরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের এই উন্নয়নে সমাজের সকল স্তরের সব ধরনের মানুষকে অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। “এজন্যই আমরা শিক্ষার পাশাপাশি নারীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর জোর দিয়েছি। আমরা নারীদের আমাদের উন্নয়নের সক্রিয় কর্মী হিসেবে বিবেচনা করি।” নারীর উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, “নারীরা এখন উচ্চ আদালতের বিচারক, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং আরও অনেক কিছু হয়ে উঠছেন। জেন্ডার বাজেটিং, মাইক্রো ফাইন্যান্স এবং অনুরূপ উদ্যোগগুলো নারীদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করেছে।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর উন্নয়নে সরকারের বিনিয়োগের কারণে নারী সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে সমৃদ্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সুফল বয়ে আনছে। “আজ ২ কোটি নারী কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে নিয়োজিত রয়েছেন এবং ৩৫ লাখেরও বেশি নারী তৈরি পোশাক খাতে কাজ করছেন, যা আমাদের বৃহত্তম রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্র।” এখন পর্যন্ত প্রায় এক হাজার নারী সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও জানান তিনি। নারীর ক্ষমতায়নে সাফল্যের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী অনেক প্রশংসা অর্জন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের নারীরা বাধা ভাঙছেন এবং পেশায় সফল হচ্ছেন, যা আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্ম কখন কল্পনাও করতে পারত না।” তিনি বলেন, “ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের জেন্ডার গ্যাপ ইনডেক্স অনুসারে আমরা নারীদের সামগ্রিক ক্ষমতায়নে দক্ষিণ এশিয়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছি, ১৪৯টি দেশের মধ্যে বিশ্বব্যাপী পঞ্চম এবং রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে সপ্তম স্থানে। এরপরেও আমাদের আরও অনেক কিছু করার আছে।”




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

প্রকাশক: সৈয়দ এমরান আলী রিপন

সম্পাদক: রোমান চৌধুরী

মোবাইলঃ ০১৭১১৯৫৭২৬৩ / 09639298200

অফিস : সৈয়দ মহল, জানুকি সিং রোড,কাউনিয়া,বরিশাল

ই-মেইলঃ barisalpress247@gmail.com

Design & Developed by
  রিফাত হত্যার রায় সাড়ে ১২ টায়   যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা বার্তা ।   বরগুনার রিফাত হত্যা রায় কিশোর ১৪ আসামি আদালতে   একেবারে আলু শূন্য হয়ে পড়েছে গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ার হাট-বাজারগুলো   চরমোনাইতে প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক, অবৈধ গর্ভপাত, অতঃপর!!   গৌরনদী থেকে শ্বশুর বাড়ি বেড়াতে গিয়ে লাশ হলো যুবক।   দিনাজপুর-বোচাগঞ্জ সড়কে জালানী ভর্তি লরি উল্টে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন   রাজশাহীতে ২ ও বিভাগে ২৬ জনের করোনা শনাক্ত   রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে আটক ৪৬   রাজশাহীতে অজ্ঞাত রিক্সা চালকের মৃত্যু   তাহেরপুরে মন্দির পরিদর্শনে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি   দেহরক্ষীসহ র‌্যাব হেফাজতে হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান |   দিনাজপুর-বোচাগঞ্জ সড়কে জালানী ভর্তি লরি উল্টে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন   পাবনা ভাংগুড়ায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো দুর্গোৎসব   নাটোরের বড়াইগ্রামে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে খামারীর মৃত্যু   নাটোরের বড়াইগ্রামে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে খামারীর মৃত্যু   নওগাঁর আত্রাইয়ে প্রতিহিংসার বিষে মরলো ১৫ লক্ষ টাকার মাছ   তালতলীতে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু   নওগাঁর রাণীনগরে একটি তালগাছে গাছের তিনটি মাথা   মির্জাগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্কুল ছাত্রের মৃত্যু