বুধবার ২৯শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
ই-পেপার   বুধবার ২৯শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

কুয়াকাটা চৌরাস্তার সড়ক যেন পর্যটকদের গলার কাঁটা
প্রকাশ: ১৬ মার্চ, ২০২২, ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ |
অনলাইন সংস্করণ

কুয়াকাটা চৌরাস্তার সড়ক যেন পর্যটকদের গলার কাঁটা

কুয়াকাটা প্রতিনিধি

কোন্ কালো শক্তির প্রভাবে কুয়াকাটা চৌরাস্তায় বাস রাখা হয় পর্যটকদের চরম ভোগান্তির মধ্যেও?? গুরুত্বপূর্ণ কুয়াকাটা পৌর শহরের দীর্ঘ এক কিলোমিটার যানজটের জন্য কারা দায়ী?? নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) কুয়াকাটা চৌরাস্তায় যানজট নিরসনে স্থানীয় প্রশাসনের নেই কোনো উদ্যেগ! পর্যটক ও স্থানীয় পথচারীদের চলাচলের ভোগান্তি নিরসনে কুয়াকাটা চৌরাস্তায় সপ্তাহে তিনদিন যানবাহন না রাখার দাবী করেন এলাকাবাসী এবং পর্যটকরা। জানাযায়, কুয়াকাটা পৌরসভা কতৃপক্ষ যানজট নিরসনের উদ্যেগ নিলেও এমন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের তেমন কোনো কার্যকরীতা মেলেনি বলে অভিযোগ করে স্থানীয়রা। জিরো পয়েন্ট এলাকায় বাস না রেখে সড়ক ফাঁকা রাখতে কুয়াকাটা পৌরসভার এমন নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে বাস রাখা অব্যাহত রেখেছে পরিবহন কতৃপক্ষ। স্থানীয় কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীরা বলেন কুয়াকাটা চৌরাস্তা জিরো পয়েন্ট এলাকায় বাস রাখার জন্য ব্যস্ত সড়কে প্রতিনিয়ত বাড়ছে অতিরিক্ত সড়ক দূর্ঘটনা এবং সড়কে চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পরি আমরা। তবে এলাকাবাসীর ধারণা, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল যেটি দীর্ঘ বছরের; এমন নজিরবিহীন সমস্যার লাগব না হওয়ার পেছনে কাজ করছে হয়তো কোনো অপশক্তির প্রভাব! কুয়াকাটা পর্যটন নগরীর আধুনিকায়নে প্রধান বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে যানজট। এতে করে পর্যটন নগরীর মান ক্ষুন্ন হচ্ছে পর্যটকদের কাছে – যার প্রভাব পরেছে দেশের পর্যটন শিল্পের মানোন্নয়নে এবং ব্যহত হচ্ছে স্থানীয় অর্থনীতির! একই কথা বরিশাল (বি.এম) কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মনির আহসান প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের দায়িত্বশীলদের অব্যাবস্থাপনটিই আমরা দায়ী করবো এখানে। তিনি পর্যটন নগরীর বিষয়টি সামনে রেখে পর্যটন সংশ্লিষ্টসহ স্থানীয় সুশীলদের এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে গভীর দৃষ্টিপাত দিতে উল্লেখ করে বলেন, একটি পর্যটক স্পটের স্বাস্থকর শৃঙ্খল পরিবেশে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের ভ্রমনের জন্য উৎসাহের যোগান দেয় – কিন্তু তেমনি একই স্থানের অস্বাস্থ্যকর বিশৃঙ্খল পরিবেশ মানুষের ভ্রমনের মানসিকতা হাড়িয়ে ফেলে অব্যাবস্থাপনার ফলে। এতে করে স্থানীয় পর্যটন শিল্পের সাথে জড়িত সাধারণ পেশা শ্রেনীর মানুষের যে উপার্জনের পথ তা বিশাল হুমকির মুখে রয়েছে। সরকারি ব্রজমোহন কলেজের বাংলা বিভাগের ঐ শিক্ষার্থী বলেন (কুয়াকাটা এলাকার বাসিন্দা), কুয়াকাটার স্থানীয় পেশাজীবীদের নির্ভর করতে হয় একমাত্র পর্যটক আগমনকে কেন্দ্র করে। যেটি বর্তমানে মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের প্রধান প্রবেশ দ্বার বেড়িবাঁধ সড়কের জিরো পয়েন্টে যত্রতত্র যানবাহন রাখার ফলে! সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবী থাকবে, দেশ যখন উন্নয়নের মহাসড়কে প্রশংসিত সেখানে কুয়াকাটা পৌরসভা গঠনের একযুগ পদার্পণে আমরা সমুদ্র সৈকতে প্রবেশ পথটিকে পরিবেশ বান্ধব এবং সুসংগঠিত পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিনত করতে পারিনি! তবে সরকারের সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় সরকারের সদিচ্ছা এবং জনগণের বিশদতার মাধ্যমে সম্ভব এটি পরিবর্তনের। মনির আহসান আরো জানান পর্যটকদের জন্য উপযোগী ও মানসম্মত একটি সুন্দর ভ্রমন স্পষ্ট হিসেবে গড়ে তোলার জন্য স্থানীয় প্রশাসন এবং সকল পর্যায়ের মানুষের ওতপ্রোতভাবে সহযোগীতা করলে দীর্ঘ বছরের এমন সংকট থেকে রেহাই পেতে পারি আমরা। সূত্রমতে, কুয়াকাটা পৌরসভাধীন পর্যটন কেন্দ্রটি দক্ষিনাঞ্চলের একটি নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি, একই স্থানে দাড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বেলাভূমি উপভোগের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত লাভ করছে দেশের বিশ্বের দরবারে। এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত হিসেবে পরিচিত। এখানে বছরের সব ঋতুতেই কমবেশি পর্যটকদের সমাগম থাকে। বিশেষ করে বছরের শুরু ও শেষের দিকে পর্যটকদের তুলনামূলকভাবে সমাগম হয়। বছরে কমে বেশি দর্শনার্থীদের সমাগম থাকেই কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে। কুয়াকাটা সকল শ্রেনীর পর্যটকদের ও দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটে। দিন দিন যেভাবে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়েছে পর্যটন এলাকার কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত তেমনি পর্যটকদের সেবার মান নিশ্চিতে প্রশাসন নানামুখী ভূমিকা রাখছে পর্যটন শিল্পের সুবিধার স্বার্থে। কিন্তু তারমধ্যেও কুয়াকাটা পৌরসভা কতৃপক্ষ পৌরসভা গঠনের একযুগেও স্থাপন করতে পারেনি কুয়াকাটা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল। তবে বর্তমান কুয়াকাটা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নির্মানের কাজ চলমান রয়েছে যা এ বছরই শেষ হওয়ার কথা জানিয়েছে কুয়াকাটা পৌর কতৃপক্ষ। তবুও যেন বর্তমান গলার কাটা নামেনি আগত পর্যটক-দর্শনার্থী এবং স্থানীয়দের! গুরুত্বপূর্ণ কুয়াকাটা ব্যস্ত সড়ক পারি দিয়ে হাজার হাজার পর্যটক-দর্শনার্থীসহ আশেপাশের এলাকার ভ্রমণ পিপাসুরা সপ্তাহে তিনদিন সৈকতে আগমন করে থাকে ভ্রমণ পিপাসা মেটাতে। কিন্তু তারা কি পারছেন সাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ উপভোগ করতে এমন প্রশ্ন তুলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী ইমাম হাসান। চলমান যানজটের অতিরিক্ত ভোগান্তির বিষয়ে পর্যটক ও স্থানীয়রা মনে করছেন স্থানীয় জনপ্রশাসনের কর্মীদের বিরুদ্ধে সঠিক দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও অনিয়ম প্রসঙ্গত কারন। কুয়াকাটা জিরো পয়েন্টে চৌরাস্তায় দুপাশে সারিবদ্ধ বিভিন্ন যানবাহন রাখাসহ স্থানীয় ব্যাবসায়ীরা সড়কের উপরে নানা আসবাপত্র রেখে করছে ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা! সড়কের এমন সংকীর্ণতার মধ্যে পর্যটক ও স্থানীয়দের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পরে! কুয়াকাটায় হাজার হাজার পর্যটক সমাগমের বিশেষ দিনগুলোতে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে যা বৃহস্পতি-শুক্র ও শনিবার ঘটে থাকে। সপ্তাহে তিনদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লেগেই থাকে যানযট; জণদূর্ভোগে যেন এটি সীমাহীন বেকায়দা।

এতে করে ঐ তিনদিনে সড়কের এহেন অবস্থার মধ্যে স্থানীয় ও পর্যটকদের পরতে হয় সময়ের বিড়ম্বনায় – যার নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে সরকারের পর্যটন সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি। একদিকে চৌরাস্তা জিরো পয়েন্ট এলাকায় প্রচুর পর্যটক ও স্থানীয়দের পদচারণে যেখানে সড়কের সামান্য ফাঁকা অংশে গাঘেঁষাঘেষী করে চলতে হয় – আবার তা বিশৃঙ্খল কুয়াকাটা বেড়ীবাঁধ সড়কের দুপাশের ধুলোবালির মধ্যে; অন্যদিকে বিভিন্ন যানবাহনে তৈরি করছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ যা পর্যটন নগরী হিসেবে বহুলাংশে বেমানান। পর্যটন সংশ্লিষ্ট এবং স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বরত যাঁরা রয়েছেন বিষয়টিকে প্রাধান্য না দেওয়ার ফলে এমন জন ভোগান্তির; বর্তমান যে গতি রয়েছে তা থেকে কোনোক্রমেই পর্যটন শিল্পের সংশ্লিষ্ট এবং কুয়াকাটা পৌরসভার কর্তব্যরতদের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই এমনটাই মন্তব্য করেন ‘কুয়াকাটা ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন’র কার্যকরী সদস্য – মোঃ আমির হোসাইন। স্থানীয়দের দাবী, কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম এই পর্যটক সমাগমের সপ্তাহের বিশেষ দিনগুলোতে সৈকতের প্রবেশপথে যেন কোনোপ্রকার বাস না রাখা হয় এবং বিভিন্ন প্রকার যানবাহন ঘোরানো না হয়। সপ্তাহের বিশেষ দিনগুলোতে যাতে কুয়াকাটা তুলাতলী এলাকায় যে ফাঁকা সড়ক রয়েছে সেখানে বাস রাখা হয় যা নির্দিষ্ট গন্তব্যে যেতে নির্ধারিত সময়ানুযায়ী একটি করে পরিবহন বাস এবং লোকাল বাস কুয়াকাটা কাউন্টারে গিয়ে যাত্রী নিয়ে রওনা হয়। কুয়াকাটা চৌরাস্তার এমন আশানুরূপ জণভোগান্তি নিরসনের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরকে সুদৃষ্টি কামনা করেন পর্যটন নগরীতে আগত পর্যটকসহ এলাকার বাসিন্দারা।




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

পুরোন সংবাদ খুজুন
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

সর্বাধিক পঠিত

প্রকাশক: সৈয়দ রিপন

সম্পাদক: রোমান চৌধুরী

মোবাইলঃ ০১৭১১৯৫৭২৬৩ / 09639298200

অফিস : জানুকি সিং রোড,কাউনিয়া,বরিশাল

ই-মেইলঃ barisalpress247@gmail.com

Design & Developed by
  বৃহস্পতিবার জানা যাবে ঈদুল আজহার তারিখ   পদ্মা সেতুতে স্পিড গান-সিসিটিভি লাগিয়ে বাইক চালুর সিদ্ধান্ত   ৫-১২ বছরের শিশুরা করোনার টিকা পাবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী   বন্ধ হয়নি ফেরি : নৌ প্রতিমন্ত্রী   ২২১৬ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন   মির্জাগঞ্জে যুবলীগ সম্পাদকের পিতৃবিয়োগ   উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করে: প্রধানমন্ত্রী   ফাইজারের টিকা পাবে ৫-১২ বছর বয়সীরা   পদ্মা সেতু পারাপারে কড়াকড়ি, টহল দিচ্ছে সেনাবাহিনী   নওগাঁর সাপাহারে ইফাঃ মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত   কোরবানি হাটের সেরা আকর্ষণ ‘‘দিনাজপুরের রাজা’’ দাম ১২ লক্ষ টাকা।   নিজ হাতে টোল দিয়ে সেতুতে প্রধানমন্ত্রী   স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা   পদ্মা সেতু উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সফল করতে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা : আইজিপি   সব দলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে হবে সংসদ নির্বাচন: প্রধানমন্ত্রী   ২৪ – ২৬ জুন পর্যন্ত পদ্মা সেতুর সংযুক্ত মহাসড়কে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান চলাচল বন্ধ থাকবে   ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে সহায়তা দেওয়া হবে   বন্যাকবলিত এলাকা ঘুরে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী   বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন   বিশ্ব বাবা দিবস আজ
error: কপি করা থেকে বিরত থাকুন !!