সোমবার ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
ই-পেপার   সোমবার ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ


এলোমেলো ভাবনা -৫ আসমা আফরোজ
প্রকাশ: ১০ আগস্ট, ২০২০, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ |
অনলাইন সংস্করণ

এলোমেলো ভাবনা -৫ আসমা আফরোজ
আসলে জন্মটা একটা লটারির মত। অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল একটা পরিবারে শারিরীকভাবে সুস্থ অবস্থায় জন্মগ্রহণ করে যারা এই লটারিটা জিতেছে, তাদের প্রত্যেকের অবশ্যই আলহামদুলিল্লাহ বলা উচিৎ। পাশাপাশি, আল্লাহ যাদেরকে এই জয়লাভের জন্য মনোনীত করেন নাই, তাদের ভাগ্যোন্নয়নের চেষ্টায় নিজেদের নিয়োজিত করা উচিত। সেদিন বুয়া এসে ঘর পরিষ্কার করার সময় বিছানায় কাঁথা দেখে খুব অবাক হয়ে বললো, “আপা, এই গরমে আপনে কাঁথা গায়েত দেন!!” তারপর নিজেই আবার স্বগতোক্তি করলো, ” আপনারার তো এসি আছে, এর লাইগ্যা শীত করে। আমরার বাড়িত টিনের চাল, এমুন গরম পরে..” তার চেহারায় প্রচণ্ড গরমের বিদ্ধস্ততা প্রকট ভাবে বিদ্যমান। হঠাৎ করে কেন যেন আমার অসম্ভব লজ্জা বোধ হল, বুয়ার দিকে চোখ তুলে তাকিয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারলাম না। প্রয়োজন হলে এসি ছাড়তে পারি, গরমের রাতেও শীতের আমেজ পাই, আল্লাহ এর কত বড় রহমত এটা!! কোন দিন আই পি এস ফেইল করলে, গরমে যেরকম ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা করে আস্ফালন করি, শীতাতপের শীতল হাওয়াতে কি সেই পরিমান কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি!? নাকি এই বিলাসিতাকে ‘অবশ্য পাওনা” হিসেবে ভেবে নিয়েছি? এখনো মনে পড়ে, যেদিন ঘরে প্রথম আই পি এস লাগানো হয়েছিল, প্রথম বার কারেন্ট যাবার পরেও আমাদের ঘর আলোকিত রয়ে গিয়েছিল। প্রতিবেশীদের অন্ধকার ঘরের মাঝে, নিজ ঘরের আলোয় আম্মু খুব সংকোচ বোধ করছিলেন। এই নতুন পাওয়া সুবিধায় আনন্দিত হবার বদলে বহুদিন দেখেছি মায়ের লজ্জিত, সংকুচিত মুখাবয়ব। আশে পাশের সবাইকে ফেলে একা একা আরাম করার সেই লজ্জা থেকে স্বাভাবিক হতে অনেক দিন লেগেছিল। আমরা প্রতিনিয়ত কত অজস্র নিয়ামতে যে ডুবে থাকি, তার সঠিক হিসাব নিজেরাও দিতে পারবো না। কি পেলাম না সেই ফিরিস্তি যত সহজে দিতে পারি, কত কিছু না চাইতেই পেয়ে গিয়েছি তা নিয়ে কিন্তু তত সহজে ভাবতে চাই না। আর নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাও হয় না। যেমন কল খুললে পানি আসে। এই আপাতদৃষ্টিতে তুচ্ছ বিষয়টি কি বিশাল আশির্বাদ তা কি জানেন? পৃথিবীর অনেক দেশে পানি যেন সোনার মত মূল্যবান। বেশ ক’বছর আগে একবার উটের পিঠে চেপে থর মরুভূমিতে যাচ্ছিলাম, আমার উটের মালিক ছিল তের/ চোদ্দ বছরের এক বালক। তার রোদে পোড়া তামাটে চেহারা আজও ভুলি নি। শুষ্ক রুক্ষ মরুভূমিতে তাদের বসবাস। তাদের মত মরুভূমির আরো অনেক গ্রামের বাসিন্দারাই, প্রতিদিনের ব্যবহার্য পানি নিয়ে আসে কয়েক মাইল দূরের নদী থেকে। সকাল হলেই গ্রামের মেয়েরা মাথার উপর অদ্ভুত উপায়ে একাধিক কলসি নিয়ে মাইলের পর মাইল হেঁটে পানি আনতে যায়। সেদিনের পর থেকে অনেক দিন কলের পানি খুললে আমি কিছুক্ষণের জন্যে হলেও মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতাম। এই সহজলভ্য পানি যে এত মূল্যবান তা এর আগে অনুভব করি নি। শুধু কলের পানি নয়, ফ্রিজ খুললে খাবার পাওয়া যে একটি অত্যন্ত আনন্দের বিষয় তা আপনি কখনোই বুঝবেন না, যদি না কখনো খাবারের কষ্ট করে থাকেন। অথবা খাবারের কষ্টে মানুষ কত ত্যাগ, তিতিক্ষা করতে পারে তা না দেখে থাকেন। বেশিদূর যেতে হবে না, এরকম মানুষ আশে পাশেই পাবেন। আমার শশুরবাড়িতে নতুন বুয়া রেখেছে কিছুদিন হল। মহিলাটির বার/তের বছরের একটি ছেলে আছে, স্বামী মারা গেছেন। বাচ্চাকে খাওয়াতে পারছেন না দেখে, বুকের ধনকে রেখে এসে অন্যের বাড়িতে কাজ করছেন। মা তাকে ফেলে চলে এসেছে, এই অভিমানে বাচ্চাটি দিনের পর দিন মায়ের সাথে কথা বলছে না। এই মায়ের সামনে দিয়ে যখন আমি বাচ্চা কোলে নিয়ে বলতে থাকি, “আমার বাচ্চা খায় না”, সারাদিন পারলে ইউটিউব ঘেঁটে, রান্না ঘরে গিয়ে বাবুর জন্য এটা সেটা রান্না করি, তখন নিজের আদিখ্যেতায় নিজেই বিরক্ত হই। এক জন তার কলিজার টুকরার মুখে দুটো ভাত তুলে দেবার জন্য, ঘর বাড়ি ছেড়ে আমাদের ঘর সাজাতে এসেছে… যে খাবার আমার ছেলে হয়তো একবার মুখে তুলে, দ্বিতীয়বার মুখ বাঁকিয়ে ফেলে দেবে, সেই অর্থহীন খাদ্য রান্নার জন্য পেঁয়াজ কুটছে, পুরো ব্যাপারটিই কেমন যেনো হৃদয় বিদারক লাগে। হায়রে, সন্তানের জন্য খাবার কেনার সামর্থ্যও যে কত বড় প্রাপ্তি, তা কি আমরা জানি? মাথার ওপর ছাদ, ভালবাসার মানুষের সান্নিধ্য, এমনকি নিজের সংসারের জন্য খাটতে খাটতে হাঁপিয়ে ওঠার জন্যেও আলহামদুলিল্লাহ বলা উচিত। নিজের সংসারের জন্যই তো পরিশ্রম করতে হচ্ছে। পরের বাড়িতে যেয়ে তো কাজ করতে হচ্ছে না। তাছাড়া কত মানুষ একটা সংসার, সন্তান পাবার জন্য দিনের পর দিন দোয়া করে যাচ্ছে, তার খবর কি আমরা রাখি! আমাদের অনেকে এই বুড়ো বয়সেও মা বাবার আদর পাচ্ছি। মাঝে মাঝে তাদের কাছে গিয়ে বিশ্রাম নিতে পারছি। কতজনের তো তাও নেই। কিংবা থাকলেও, তাদের কাছে যাওয়া সম্ভব নয়। আসলে না পাওয়ার হিসেব করতে গেলে, তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতে থাকবে। তার চেয়ে কি কি পেয়েছি, তার হিসেব করলে কেমন হয়? সারাজীবিনেও হিসেব শেষ করতে পারবেন না। সচেতন বা অবচেতন ভাবে কত নিয়ামতে আমরা আকন্ঠ ডুবে আছি তা আমরা নিজেরাও জানি না। জীবন নিয়ে কৃতজ্ঞ হলে, লাভ বই ক্ষতি নেই। দুনিয়ার পেছনে, নিরন্তর চাহিদার পেছনে ছুটতে ছুটতে, জীবনে যা আছে তা উপভোগ করার আগেই ওপারে পাড়ি জমায় অনেকে। তাই মাঝে মাঝে গন্তব্যহীন ইঁদুর দৌড় থেকে একটু থমকে দাঁড়ালে কেমন হয়? নাহলে জানবো কি করে, আমার রব আমাকে কত কিছু দিয়েছেন?!




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

প্রকাশক: সৈয়দ এমরান আলী রিপন

সম্পাদক: রোমান চৌধুরী

মোবাইলঃ ০১৭১১৯৫৭২৬৩ / 09639298200

ই-মেইলঃ barisalpress247@gmail.com
অফিস : সৈয়দ মহল, জানুকি সিং রোড,কাউনিয়া,বরিশাল

Design & Developed by
  নওগাঁয় আবারও তৃতীয় দফায় বন্যায় নিন্মাঞ্চল প্লাবিত   নওগাঁর রাণীনগরে মোবাইল চুরির অপবাদে নির্যাতন ৷   পাবনা ভাংগুড়া পৌর মেয়র মোঃ গোলাম হাসনাইন রাসেলের শোক প্রকাশ   আজ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার জন্মদিন   বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার জন্মদিন আজ   বরিশালে দুর্গাসাগর দীঘিতে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়   ঘোড়াঘাটে পানিবন্দি এলাকা পরিদর্শন করলেন -শিবলী সাদিক এমপি   অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের শোক   অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে ধীরেন্দ্র দেবনাথ এমপির শোক   ভোলার চরনোয়াবাদে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ   এ্যাড. জাকিয়া তাবাস্সুম জুঁই এমপি’র বড় ভাই ডঃ রিজা শহীদের ইন্তেকালে আইনজীবী নেতৃবৃন্দের সমবেদনা   প্রবাসীর স্ত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ   বিমান বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা অনুশীলন ‘এডেক্স-২০২০-২’ অনুষ্ঠিত |   অ্যাটর্নি জেনারেলের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক   “অন্যকে শুদ্ধ করার আগে নিজেকে শুদ্ধ হতে হবে। ” বিএমপি কমিশনার।   সাহসী নারী লাইজু বেগমকে পুরস্কৃত করলেন বিএমপি কমিশনার।   অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আর নেই   নতুন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোমিনুর রহমান |   নতুন ভর্তি হওয়া একাদশের শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাস হবে |   আত্রাই নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি বন্যায় অসহায় হাজারো মানুষ পানি বন্দি