মঙ্গলবার ২৭শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
ই-পেপার   মঙ্গলবার ২৭শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আলেমের জীবনসংগ্রাম
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর, ২০২০, ৯:০২ অপরাহ্ণ |
অনলাইন সংস্করণ

একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আলেমের জীবনসংগ্রাম

তুর্কি আলেম আকরাম উশার শৈশবেই বাঁ চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। এরপর মাত্র ১৫ বছর বয়সে দুর্ঘটনায় ডান চোখটিও হারান তিনি। কিন্তু এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও জীবনের হাল ছাড়েননি, তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষা, দৃঢ় সংকল্প ও নিরলস পরিশ্রমের গুণে সাফল্যের দেখা পেয়েছেন তিনি। ২৬ বছর বয়সী এই আলেমের জীবনসংগ্রামের গল্প তুর্কি প্রেস থেকে বাংলায় ভাষান্তর করেছেন বেলায়েত হুসাইন।

আকরাম উশার বলেন, বাঁ চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর আমি যখন আমার ভবিষ্যৎ পৃথিবীকে অন্ধকার দেখি, হতাশায় কাতর হয়ে পড়ি, তখন দাদা আমার হাত ধরে বলেছিলেন—তোমার কিছুই হয়নি, দৃষ্টিহীন হয়েও তুমি তোমার পৃথিবী আলোকময় করে তুলতে পারো। তোমার জন্য নিরাশার কিছুই নেই, চেষ্টা করলে তুমিও জীবনযুদ্ধে জয়ী হতে পারবে। দাদার পরামর্শেই তুরসুসের একটি হিফজ বিভাগে ভর্তি হই আমি। হিফজ বিভাগের জীবনকে আমি ভালোই উপভোগ করছিলাম। কোরআনের সংস্পর্শে এসে আমার মধ্যে অলৌকিক এক আলো অনুভব করলাম। আলহামদুলিল্লাহ! মাত্র ১০ মাসেই সম্পূর্ণ কোরআনে কারিম হিফজ করার সৌভাগ্য অর্জন করি। এতে আমার নৈরাশ্য ও হতাশা অনেকটাই কেটে যায়। তখন আমি আত্মোপলব্ধি করি যে আমি এখন খুশি ও নিশ্চিন্ত। কিন্তু আমি যখন আমার ভবিষ্যৎ জীবনের পরিকল্পনা নিয়ে চিন্তা শুরু করি, ঠিক তখনই আমার জীবনে আরো বড় অন্ধকার নেমে আসে। দুর্ঘটনায় ডান চোখটিও হারিয়ে ফেলি। এখন আমি অন্ধ। অথচ বয়স মাত্র ১৫ বছর।

তার পরও আমার আত্মশক্তি আরো বলীয়ান হয়ে ওঠে। আমি সংকল্প করি, আমার জীবনটাই যুদ্ধের, হার মানা চলবে না। হাফেজে কোরআন হিসেবে চারটি লক্ষ্য নির্ধারণ করি—এক. আমার অন্তরে কোরআন আরো গভীরভাবে গেঁথে নেব। দুই. তুরস্কের একজন সেরা হাফেজ হব। তিন. আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশের মান উজ্জ্বল করব। চার. দেশ-বিদেশে কোরআনের খিদমতের যোগ্যতা অর্জন করব।

আলহামদুলিল্লাহ! আমি আমার লক্ষ্যপানে সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে চলছি। ২০১৬ সালে তুরস্কে অনুষ্ঠিত যুবকদের হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছি। ২০১৮ সালে ইরানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় অন্তত ৫৩টি দেশের প্রতিযোগীদের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জনে সমর্থ হই। এর আগে ২০১৬ সালে তুরস্কের আকসারা ইউনিভার্সিটিতে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে ভর্তির সুযোগ পাই। একই বছর হাসাস শহরের মসজিদে ইমাম হুসাইন (রা.)-এ মুয়াজ্জিন হিসেবে নিয়োগ পাই এবং মাস্টার্সে ভর্তি হই। মসজিদে আগত মুসল্লিদের কোরআনে কারিম পড়ানোর সুযোগ পেয়ে যাই আর বিষয়টি আমি দারুণভাবে উপভোগ করতে থাকি। কিছুদিন আগে আমাদের মসজিদে ইমামের পদ খালি হলে কর্তৃপক্ষ আমাকে নতুন ইমাম হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ! আমি আমার জীবন নিয়ে খুব খুশি ও আনন্দিত।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

প্রকাশক: সৈয়দ এমরান আলী রিপন

সম্পাদক: রোমান চৌধুরী

মোবাইলঃ ০১৭১১৯৫৭২৬৩ / 09639298200

অফিস : সৈয়দ মহল, জানুকি সিং রোড,কাউনিয়া,বরিশাল

ই-মেইলঃ barisalpress247@gmail.com

Design & Developed by
  একেবারে আলু শূন্য হয়ে পড়েছে গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ার হাট-বাজারগুলো   চরমোনাইতে প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক, অবৈধ গর্ভপাত, অতঃপর!!   গৌরনদী থেকে শ্বশুর বাড়ি বেড়াতে গিয়ে লাশ হলো যুবক।   দিনাজপুর-বোচাগঞ্জ সড়কে জালানী ভর্তি লরি উল্টে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন   রাজশাহীতে ২ ও বিভাগে ২৬ জনের করোনা শনাক্ত   রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে আটক ৪৬   রাজশাহীতে অজ্ঞাত রিক্সা চালকের মৃত্যু   তাহেরপুরে মন্দির পরিদর্শনে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি   দেহরক্ষীসহ র‌্যাব হেফাজতে হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান |   দিনাজপুর-বোচাগঞ্জ সড়কে জালানী ভর্তি লরি উল্টে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন   পাবনা ভাংগুড়ায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো দুর্গোৎসব   নাটোরের বড়াইগ্রামে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে খামারীর মৃত্যু   নাটোরের বড়াইগ্রামে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে খামারীর মৃত্যু   নওগাঁর আত্রাইয়ে প্রতিহিংসার বিষে মরলো ১৫ লক্ষ টাকার মাছ   তালতলীতে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু   নওগাঁর রাণীনগরে একটি তালগাছে গাছের তিনটি মাথা   মির্জাগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্কুল ছাত্রের মৃত্যু   বলেশ্বর নদী থেকে ৩১ হাজার মিটার জাল আটকের পর পুড়িয়ে দিয়েছে নৌবাহিনী   অযন্তে ও অবহলোয় ঐতিহ্যের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বাগেরহাটের সদর উপজেলায় অবস্থিত কোদলা মঠ বা অযোদ্ধা মঠ   নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিমকে জনগণই রক্ষা করে |